একান্ত সাক্ষাৎকারে ওগো নীরুপমার ভিলেন ‘হ্যারি ‘ ওরফে অনুজিৎ সরকার

“ভিলেন” অর্থাৎ নেতিবাচক চরিত্র বিষয়টি তে কোনো অভিনেতার জীবনে চ্যালেঞ্জিং। বাংলা মেগাসিরিয়ালে এমনই এক ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করছেন গুনী অভিনেতা অনুজিৎ সরকার। জনপ্রিয় ধারাবাহিক “ওগো নীরুপমা ” তে ‘হ্যারি‘ নামক একটি নেতিবাচক চরিত্র দেখা যায় অনুজিৎ সরকারকে। হ্যারি নীরুপমার স্বামী আবীরের বোন এনার প্রেমীক। চরিত্রটি এনাকে নিজের প্রেমের দরবারে আবদ্ধ করে শুধু সম্পত্তির জন্য। নিউটাউন নিবাসী অনুজিৎ , আসল জীবনে হ্যারির ঠিক বিপরীত। শিক্ষক দম্পতির পুত্র স্নাতকত্বের পর রোগ দেন থিয়েটারে, তারপর অভিনয় জগতে আসা। একটি সহজ সাক্ষাৎকারে শিল্পী ভাগ করে নেন বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা:

আমি ব্যাক্তিগত জীবনে অত্যন্ত happy go lucky: ওগো নীরুমার ভিলেন 'হ্যারি ' ওরফে অনুজিৎ সরকার
অনুজিৎ সরকার

আরও পড়ুনঃ জোড়াসাঁকো বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর সমর্থনে অভিনেত্রী নুসরাত এর রোড শো

হ্যারি চরিত্রের সাথে রিয়েল লাইফ অনুজিতের মিল আর আমিল ঠিক কোথায়?

হ্যারি চরিত্রেটি নেতিবাচক ও লোভী, আমি ব্যাক্তিগত জীবনে অত্যন্ত happy go fortunate , নির্লোভ একজন মানুষ। যে কারনে মিল একেবারে নেই, অমিলটাই বেশী। তবে এই অমিল থাকার কারনে এই চরিত্রটি আমার চ্যালেঞ্জিং মনে হয়।

আপনার প্রিয় অভিনেতা ও অভিনেত্রী?

একজন আর আমাদের মধ্যে নেই, সৌমিত্রর বাবু। এছাড়া অমিতাভ বচ্চন আমার প্রিয় অভিনেতা। অপর্ণা সেন আমার প্রিয় এক অভিনেত্রী। সমকালীন দের মধ্যে আয়ুষ্মান খুরানা, ও নুসরাত ভারুচার অভিনয় আমায় মুগ্ধ করে।

আরও পড়ুনঃ কার্তিকের পর এ বার করণ জোহর সম্পর্ক ছাঁটলেন শাহিদের সঙ্গেও? বলিউডে ধুন্ধুমার!

প্রথম যখন হ্যারি চরিত্রের প্রস্তাবটি আসে কি মনে হয়েছিল?

আমি তখন সাঁঝের বাতি ধারাবাহিকে এক ইতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম, প্রস্তাবটি তখন আসে। চরিত্রটি নেতিবাচক বলে আমার বেশ আগ্ৰহ তৈরী হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রস্তাবটি ফাইনাল হয়।

আমি ব্যাক্তিগত জীবনে অত্যন্ত happy go lucky: ওগো নীরুমার ভিলেন 'হ্যারি ' ওরফে অনুজিৎ সরকার
অনুজিৎ সরকার

অভিনয় জীবনে মনের মত চরিত্র কোনটি?

অবস্যই অন-স্কৃন চরিত্রে হ্যরি আমার প্রিয়। আমার মধ্যে একটা ফিল্যান্থ্রপি কাজ করে, হ্যারি একদম উল্ট বলেই, এটি আমার মনের মতো চরিত্র। আমি থিয়েটার জীবনে “আকাশ” নাটকে নীল নামক একটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম, চরিত্রটি একজন নিষ্ঠাবান স্বামীর, ওই চরিত্রটি খুব ইন্সপায়রিং।

আরও পড়ুনঃ করোনা কড়চা: আক্রান্ত কি না বলে দেবে এক্স-রে, কতটা কাজের রেমডেসিভির?

অভিনয় জগতে প্রবেশ করার অনুপ্রেরণা কে বা কারা?

এই কে বা কারার গল্পটা কিন্তু মজার। আমার বাবা মা শিক্ষকতা করেন, একটি স্কুল চালান। বাড়িতে কেউ এই জগতের সাথে যুক্ত না থাকায় শুরুর দিকে খুব একটা আমল পাইনি আমি, যখন বাড়িতে বলি তে অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চাই।
আমি ছেলে বেলায় পাড়ায় দেখতাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতেন অভিনেতা ও কলা কুশলীরা। তখন ওই অসংখ্য হাততালি, মানুষের আবেগ দেখে মনে হত, ওই স্টেজের স্থানটা আমার চাই। এই অনুপ্রেরণা নিয়ে এগিয়ে আসি এই জগতের দিকে। এখন অবশ্য পরিবার ও অনুপ্রেরণা জোগায়।

আগামী কিছু বছরে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

আমি শুধু ভালো কাজ করতে চাই, লোকে তাতে আমার অভিনয় করা চরিত্র গুলো কে মনে জায়গা দেন। আমি ইতিবাচক ভূমিকায় যেমন চাই মানুষের ভালোবাসা, তেমন নেতিবাচক চরিত্রে গালাগালি ও আমার জন্য অনবদ্য প্রাপ্তী।

কোন অভিনেতার সাথে স্কৃন শেয়ার করাটাকে স্বপ্নের মত মনে হয়?

অপর্ণা সেন ও অমিতাভ বচ্চন।

Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *