একান্ত সাক্ষাৎকারে গজল সম্রাজ্ঞী জেনিভা রায়

Spread the love
Read Time:5 Minute, 41 Second

মাত্র আট বছর বয়সেই সঙ্গীতে তিনি তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন।সঙ্গীতের আবহে বড় হওয়া হিন্দুস্থানি, ক্লাসিক্যাল, রবীন্দ্রসংগীতে তালিম নিলেও গজলের প্রতি ভালোবাসাটা অন্তরের।তিনি গজল গানের রানী জেনিভা রায়।

জেনিভার জন্ম ও বড় হয়ে ওঠা বেলঘরিয়ায়।বেলঘরিয়ার যতীন দাস বিদ্যমন্দির থেকে স্কুলিং।ভৈরব গাঙ্গুলী কলেজ থেকে স্নাতক।

বাবা ব্যাপী রায় ও মা শিখা রায় দুজনেই সংগীত জগতের মানুষ।বাবা মা দুজনেই সেই সময়ের জনপ্রিয় শিল্পী।স্বভাবিক ভাবেই বাড়িতে গান বাজনার পরিবেশ ছিল।প্রতিদিন সন্ধ্যে হলেই বাবার কাছে প্রচুর মিউজিশিয়ান আসতেন, বাবার সঙ্গে তাঁদের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা শুনতেন।সেখান থেকেই গানের প্রতি ভালোবাসা।আধুনিক ও ক্লাসিক্যাল গানের তালিমটা শুরু হয়েছিল বাড়িতেই।এছাড়াও উস্তাদ মসউর আলি খানের কাছে তাঁর ক্লাসিক্যাল তালিম।

জেনিভা যখন স্কুল ছাত্রী ১৯৯৮ সালের দিকে ‘কিরনি’ নামে তাঁর একটি হিন্দি রিমেক অ্যালবাম বেরোয়।এরপর ‘সজনী’ বলে তাঁর একটা বাংলা অ্যালবাম বেরোয়।সেই সময় পরিচালক রাজ মুখোপাধ্যায়ের ‘মালাবদল’ ছবিতে গানের সুযোগ ঘটে যায়।এই সময়েই তাঁর সঙ্গে একটা দারুন ঘটনা ঘটে যায়।’মালাবদল’ ছবির নায়িকার চরিত্রের জন্য নতুন মুখ খোঁজ চলছিল।সেই সুযোগটাও তাঁর এসে যায়।প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে অভিনয় করলেন।ছবি দারুন হিট করলো কুমার শানুর সঙ্গে ছবির সবকটি গানও তাঁর গাওয়া ছিল।গানগুলোও খুব জনপ্রিয়তা পায়।এরপর গানের পাশাপাশি ‘ত্যাগ’,’এ শুধু আমার গান’ এবং অসমীয়া ছবিতেও অভিনয় করেছেন।মুক্তির অপেক্ষায় আছে নেহাল দত্তর পরিচালনায় ‘খুশবু’।ছবিটি অনেকগুলো ভাষায় মুক্তি পাবে বলে অভিনেত্রী জানান।খুব শীঘ্রই দুটো বাংলা এবং একটি হিন্দি ছবির শুটিং শুরু হবে।

জেনিভা রায়
জেনিভা রায়

গজলের প্রতি গায়িকা ও অভিনেত্রী জেনিভার ভালোবাসাটা কিভাবে জন্মালো প্রশ্ন করতে তিনি জানালেন,”প্রখ্যাত গজল শিল্পী ওমপ্রকাশ বিন্দ্রে আমার মায়ের সঙ্গে প্রচুর শো করতেন।আমাদের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল।এছাড়া ছোট থেকে জগজিৎ সিং-এর গজল শুনে বড় হওয়া।এইভাবে গজলের প্রতি ভালোবাসা।এরপর বিভিন্ন জায়গায় গজলের তালিম নিই।এই সময় ‘তুমসে জো পেয়ার হুয়া’ বলে আমার একটা ভোজপুরী অ্যালবাম বেরোয়।সেই সময় মিউজিক ডিরেক্টর নৌশাদ আলির সঙ্গে স্টুডিওতে পরিচয় হয়েছিল।আমাকে গজল গানের অ্যালবাম করার জন্য অনুপ্রেরণা দেন।ওনার অনুপ্রেরণায় ওনার সুরে জমিল হায়দার সাদ-এর গীতরচনায় আমার প্রথম গজল অ্যালবাম ‘আস’ ২০০৩ সালে প্রকাশ পায়।এজন্য আমাকে তিন বছর উর্দু শিখতে হয়েছিল।আমি আরবি ফার্সিও শিখেছি।”

অ্যালবামটি সকলের বেশ ভালো লাগে।এবার মুম্বাই যাত্রা।মুম্বাইতে প্রকাশ পেল গজল অ্যালবাম ‘এহেসাস পেয়ার কা’।অভিনেত্রী সুস্মিতা সেন অ্যালবামটি উদ্বোধন করেন।এরপর একের পর এক জনপ্রিয় অ্যালবাম প্ৰকাশ।গজল গান পরিবেশন করেছেন অস্ট্রেলিয়া, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম,মরিশাস, মালেশিয়া,হংকং,থাইল্যান্ড,ইসরায়েল,ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ, রাশিয়া,নিউজিল্যান্ড,সাউথ করিয়া,দুবাই সহ পৃথিবীর বহু জায়গায়।দীর্ঘ কুড়ি বছরের সঙ্গীত জীবনে ভারতের প্রায় সব ভাষাতেই গান গেয়েছেন।প্রায় ৫০টির উপরের বাংলা ছবিতে প্লেব্যাক করে ফেলেছেন।জেনিভার সঙ্গীত জীবন আরো মধুরময় হোক।আমাদের তরফ থেকে রইলো অনেক অনেক শুভকামনা।

সাক্ষাৎকার: রামিজ আলি আহমেদ

আরও পড়ুন  কালীপুজোর আগেই দক্ষিণেশ্বর পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালুর উদ্যোগ কর্তৃপক্ষের

আরও পড়ুন     বেলেঘাটায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে উড়ে গেল ক্লাবের ছাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *