একান্ত সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি মৈনাক ঢোল, অভিনয়কে সম্বল করেই এগোতে চান, ও গো নিরুপমার ‘মৈনাক’

নিজস্ব প্রতিনিধি: অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের জীবন নিয়ে আমাদের কৌতুহল থাকে না না রকম। অনুরাগীদের মধ্যে অভিনেতাদের ব্যাক্তিগত জীবন, তাদের বেড়ে ওঠা , কেরিয়ারের সুচনা নিয়ে থাকে অপরিসীম জিজ্ঞাসা। মৈনাক ঢোল এমনই একজন অভিনেতা যাকে কখনো দেখা যায় নায়কের চরিত্রে, কখনো অ্যান্টি- হিরো, কখনো খলনায়ক। শশুরবাড়ি জিন্দাবাদ ধারাবাহিকে তিনি ছিলেন নায়ক কিংশুকের চরিত্রে, ও গো নিরুপমা ধারাবাহিকে মৈনাক, আর রিমলী ধারাবাহিকে কাজ করছেন প্রতীক চরিত্রে। আসলে মৈনাক কার মত, কিংশুক, প্রতীক নাকি মৈনাকের মত! কিভাবে কাটছে তার লকডাউন..জানালেন একান্ত সাক্ষাৎকারে।

অভিনয় করবেন এটা কি ছেলেবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল না পড়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

ছোটোবেলা থেকেই টিভিতে সিনেমা দেখে অভিনেতাদের এক্সপ্রেশন নাচ এগুলো বাড়ীতে কপি করতাম। তারপর পাড়ার কোনো অনুষ্ঠানে বা পুজোর অনুষ্ঠানে সেগুলো ড্যান্স এর মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করতাম। আসলে ছোটোবেলা থেকে ডান্স টা খুব ভালোবাসতাম আর প্র্যাকটিস করতাম বাড়ীতে নিজে। তার অনেক পরে আমি নাচের প্রশিক্ষণ নি। তারপর আস্তে আস্তে অভিনয় এর দিকে ঝোক বাড়ে। এখন আপাতত অভিনয় টাকে নিয়েই এগোতে চাই।

Contribute to Yass flood relief

অভিনয় জগতে প্রথম ব্রেকের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

আনন্দ তো হয়েছিলো তবে সত্যি বলতে খুব খুব নার্ভাস ছিলাম। ক্যামেরার সামনে এর আগে ডান্স করলেও অভিনয় তো প্রথমবার। তার উপর সিনিয়ার অ্যাক্টর দের সাথে । সব মিলিয়ে আমি ভীষন টেনশনে ছিলাম। তবে একটা কথা বলতেই হবে সেইসময় আমার কো-আর্টিস্ট ছিলেন যারা যাদের সাথে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছিলো আমার রজত আঙ্কল যুধাজিৎদা শুভ্রজিত দা কৌশিক দা রাজুদা বীরেশ দা সহ সবাই যেভাবে আমার মতো একজন নিউকামার কে নিজের মতো করে নিয়ে সবটা শিখিয়ে দিয়েছিলেন তাতে আমার নার্ভাসনেস খুব অল্পদিনেই কেটে গিয়েছিলো। আর আমাদের ডিরেক্টর মনোজিৎদা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমায় গাইড করেছিলো যেইজন্য আমি কিংশুক চরিত্রটা ফুটিয়ে তুলতে পেরেছিলাম।

পরিবার থেকে কতটা অনুপ্রেরণা পেয়েছেন?

মা এর অনুপ্রেরণা ছিলো সবচেয়ে বেশী। যখন আমি চাকরি ছেড়ে অভিনয় জগতে পা রাখবো আমার পরিবারের বাকীরা তখন এটা সাপোর্ট করেনি তখন একমাত্র আমার মা ই আমার পাশে থেকেছিলো আর সবাইকে বুঝিয়েছিলো যে এটা আমার স্বপ্ন আর আমি যেনো আমার স্বপ্নের পথেই চলতে পারি। আজ মা না থাকলে আমি এতোটা জোর পেতাম না। আমি আমার বাবাকে খুব মিস করি। যখন আমি ক্লাস সেভেনে পড়ি তখন আমি আমার বাবাকে হারাই। আমার একটাই আফশোষ আমার আজ যতটুকু সাফল্য সেটা আমার বাবা দেখে যেতে পারলো না। তবে আমি বিশ্বাস করি উনি আমার সাথেই আছেন।

মৈনাক ঢোল

এখন অবধি অভিনিত চরিত্র গুলির মধ্যে আপনার প্রিয় কোনটি?

অবশ্যই কিংশুক। নিজেকে প্রথমবার টেলিভিশনের পর্দাতে নায়কের ভূমিকায় দেখার যে আনন্দ সেটা আমায় কিংশুক দিয়েছিলো। আর কিংশুকের হাত ধরেই তো আমার অভিনয় জীবন শুরু। তাই এই চরিত্রটার জন্য আমার মনে সবসময়ের জন্য একটা বিশেষ জায়গা থাকবে।

কিংশুকের সাথে মৈনাকের কতটা মিল ও অমিল?

কিংশুকের সাথে মৈনাকের মিলটাই বেশী আর খুব অদ্ভূতভাবে অমিল নেই বললেই চলে। যে মিলটার কথা বিশেষভাবে বলতেই হয় সেটা হলো কিংশুক আর মৈনাক দুজনেই খুব জেদি। যেটা ভাবে সেটা করেই ছাড়ে।

ও গো নিরুপমা ধারাবাহিকে মৈনাক ও রিমলি ধারাবাহিকে প্রতীক চরিত্রে অভিনয় করার অভিজ্ঞতা কেমন?

দুটো চরিত্রই আমার কাছে খুব চ্যালে্ঞ্জিং। কারন ওগো নিরুপমা তে প্রথম আমি নেগেটিভ চরিত্রতে অভিনয় করি। অনেক কিছু শিখেছি ওই চরিত্রটা থেকে। ওটা দেখেই আমায় রিমলি তে প্রতীক চরিত্রটা দেয়। দুটো চরিত্রকেই ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছি এখন। জানিনা কতোটা পারছি তবে সবার কাছ থেকে যেমন ফিডব্যাক পাই তাতে মনে হয় হয়তো কিছুটা হলেও পারছি।

কোন অভিনেতার ও অভিনেত্রীর সাথে screen শেয়ার করাটা স্বপন বলে মনে হয়?

যে তিনজনের সাথে স্ক্রিন শেয়ার করাটা স্বপ্ন আমার তাঁদের তিনজনের কেউই এখন আর আমাদের মধ্যে নেই তাঁরা হলেন উত্তম কুমার আর উৎপল দত্ত। যাদের অভিনয় দেখে আমি অনুপ্রেরনা পাই।
তবে নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি আর বিদ্যা বালান এর সাথে স্ক্রিন শেয়ার করতে পারলে আমি খুশী হবো খুব। দেখা যাক কবে হয়।

মৈনাক ঢোল
লকডাউনে মনের মত কাজ কি করলেন?

লকডাউনে যখন বাড়ীতে বসে খুব বোর হচ্ছি আর মাকে সারাদিন খুব বিরক্ত করছি তখন আমার মাথায় একটা আইডিয়া আসে আর সেটা আমি আমার বন্ধু রূপক এর সাথে শেয়ার করি। আমরা দুজনে মিলে ঠিক করি একটা শর্টফিল্ম করবো যে যার বাড়ীতে বসে। সাথে সাথে কাজে লেগে পড়ি। স্ক্রিপ্ট রেডি করা আর্টিস্ট ঠিক করা শট কেমন কি হবে এডিট টিমের সাথে আলোচনা সবটাই আমরা দুই বন্ধু মিলে করি। আর ফাইনালি আমরা রিলিজ করি আমাদের প্রথম বানানো শর্টফিল্ম “অস্তিত্ব ”।যেটা আমরা আমাদের ইউটিউব চ্যানেল এ দেখতে পাবেন। আর আমরা দারুন রেসপন্স পেয়েছি। তাই খুব খুশী আমরা। ইচ্ছে আছ দুই বন্ধু মিলে আমরা আরও কাজ করবো।

আগামী দিনে নিজেকে কোথায় দেখতে চান?

টেলিভিশনের পাশাপাশি সিনেমা আর ওয়েব সিরিজেও নিজেকে একজন সাকসেসফুল ভার্সেটাইল অ্যাক্টর হিসেবে দেখতে চাই।

Spread the love

Leave a Reply

%d bloggers like this: