একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে সনিয়া-শরদকে নিয়ে BJP বিরোধী ফ্রন্টের ব্রিগেড

সুরশ্রী রায় চৌধুরী: একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মোদী বিরোধী ফ্রন্ট গঠনের ডাক দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ঘোষণা করলেন, কোভিড সংক্রমণ কমলে আগামী শীতে বিরোধী নেতানেত্রীদের নিয়ে ব্রিগেড সমাবেশ করবেন।       ভোটের ফল ঘোষণার পর বড় করে ব্রিগেড করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন মমতা (Mamata Banerjee)। সে কথাই এ দিন ফের শোনা গেল তাঁর মুখে। তৃণমূল নেত্রী জানান,’২১ জুলাই প্রতিবছর করি। এবছর ভেবেছিলাম বড় করে করব। কিন্তু কোভিড অতিমারির কারণে ভার্চুয়াল করলাম। অসম, ত্রিপুরা, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশে যাঁরা ভার্চুয়াল শুনছেন, তাঁদের অভিননন্দন, সেলাম।’ ভাষণের শেষ পর্বে তিনি বলেন,’যদি কোভিড মিটে যায় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তাহলে শীতকালে আমরা ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে সভা করব। শরদ পাওয়ারজি, দিগ্বিজয়জি, সনিয়াজি, মহারাষ্ট্র, কেরল, দিল্লি, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশের- সব মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ করে এখানে আনব। সবাই মিলে জনতার কাছে কমিটমেন্ট করব আমরা।’

আরো পড়ুন ‘খেলা দিবস’ ঘোষণা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

২০১৯ সালের আগে ব্রিগেডে ‘ইউনাইটেড ইন্ডিয়া র‌্যালি’ করেছিলেন মমতা। তবে এবার নির্বাচনের মুখে নয় বরং আগে থেকে জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত বলে মনে করেন মমতা (Mamata Banerjee)। তাঁর কথায়,’৩ বছর বা আড়াই বছর বাকি। তাড়াহুড়ো করলে হবে না। আবার নির্বাচনের সময়ে জোট করলেও হবে না। এখনও অনেক দিন আছে। আসুন আমরা জোট করি এবং এগিয়ে চলি। ভারতকে পথ দেখাই। ভারতকে আলো দেখানো জরুরি। শিল্প, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী। সবাই একসাথে আসুন। আমি কর্মীদের মতো থাকব। আপনাদের আদেশ মেনে চলব।’

আরো পড়ুন  একুশে ‘ভার্চুয়াল বার্তা’ সায়নীর, কী বললেন তৃণমূলের যুব নেত্রী?

এ দিন ভাষণের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত বিজেপি বিরোধী শক্তিশালী জোট গঠনের পক্ষে সওয়াল করে গিয়েছেন মমতা। তাঁর অভিমত,’একসঙ্গে কাজ করার জন্য ফ্রন্ট তৈরি করুন। এখন থেকে পরিকল্পনা করুন। মৃত্যুর পর ডাক্তার এলে কিছু হয় না। রোগ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্দোবস্ত বা চিকিৎসা করালে রোগী সুস্থ হন। এখন আপনাদের কাছে সময় রয়েছে। যত সময় নষ্ট করবেন, তত নষ্ট হবে। পরের সপ্তাহে ২-৩ দিনের জন্য আমি দিল্লি যাব। সংসদ চললে সকলের সঙ্গে দেখা হয়। দু’বছর যেতে পারিনি। গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে দেখা করব। শরদজি আছেন, চিদম্বরমজি আছেন। আপনারা যদি মিটিং করতে চান ২৭, ২৮, ২৯ তারিখ আমি তিনদিন থাকব। এই ৩ দিনের মধ্যে বৈঠক করতে পারলে আমরা কথা বলতে পারি।’ বিজেপির বিরুদ্ধে গোটা দেশে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান করেন।

স্লোগান বেঁধে দিয়ে তাঁর বার্তা, ‘প্রতিদিন যখনই সময় পাবেন আধ ঘণ্টা করে মিছিল করবেন। মানুষকে ডিস্টার্ব করবেন না। পেট্রোলের দাম বাড়ল কেন জবাব চাই জবাব দাও। ডিজেল ও রান্নার গ্যাস দাম বাড়ল কেন, জবাব চাই, জবাব দাও। ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না কেন, জবাব চাই জবাব দাও। পেগাসাস পেগাসাস নরেন্দ্র মোদীর নাভিশ্বাস। পেগাসাস হঠাও স্পাইং হঠাও দেশ বাঁচাও। সব নেতাদের অনুরোধ করছি প্রতিটি রাজ্যে কর্মসূচি নিন। রাজনৈতিক কর্মসূচি নিতে হবে আমাদের। হোয়াইট গেট কেলেঙ্কারির চেয়েও এটা বড়। এটাকে ভুলতে দিলে চলবে না। ছেড়ে দিলে চলবে না। চিদম্বরম, শরদ পাওয়ারজি আপনাদের ছেড়েছে? কাউকে ছাড়েনি। প্রতিদিন ডিস্টার্ব করছে আমাদের দলকে।’

আরো পড়ুন  জালে মদ তৈরি করে তিনি এখন জালে! দলীয় নেতাকে বহিষ্কার তৃণমূলের

পেগাসাস নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ দেগে ব্যক্তি স্বার্থ ভুলে জোট তৈরির কথা বলেছেন মমতা। তাঁর কথায়,’গণতন্ত্রের বদলে দেশে গোয়েন্দাগিরি চলছে। সবার মুখ বন্ধ। আজ আমাদের এককাট্টা হওয়া উচিত। ব্যক্তি-স্বার্থ ভুলে দেশতে বাঁচাতে হবে। একটাই স্বার্থ দেশকে বাঁচানো। জনতাকে বাঁচানো। গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে রাজনৈতিক দলগুলিকে এক জায়গায় আসতে হবে। নইলে জনতা ক্ষমা করবে না।’

আরো পড়ুন  একুশে জুলাইয়ে নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করল গেরুয়া শিবির (Bengal BJP)

বলে রাখি, দিল্লির কনস্টিটিউশনাল ক্লাবে এ দিন তৃণমূলের শহিদ দিবস পালনের কর্মসূচিতে হাজির হন কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম, কংগ্রেস সাংসদ দিগ্বিজয় সিং, সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রামগোপাল যাদব-সহ শিরোমণি অকালি, ডিএমকে, টিআরএস-র সাংসদরা। কন্যা তথা সাংসদ সুপ্রিয়া সুলেকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি প্রধান শরদ পওয়ারও। তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানান মমতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *