ফের মিড-ডে-মিল নিয়ে দূর্নীতির অভিযোগ উঠলো এই রাজ্যে

দেবা দাস, কৃষ্ণনগর: করোনার দাপটে স্কুলের পঠন পাঠন বন্ধ থাকলেও লকডাউন এর সময় বিভিন্ন স্কুলের মিড-ডে-মিলের সামগ্রী বিতরণের কাজ চলছিল। তবে মিড-ডে-মিল সামগ্রী নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ রাজ্যে প্রথম নয়। এবার সেই মিড-ডে মিলের সামগ্রী নিয়েই দুর্নীতির অভিযোগ উঠল মালদার চিন্তামি চমৎকার প্রাথমিক স্কুলে। বৃহস্পতিবার, স্কুলে মিড-ডে-মিল বিতরণ কালে পড়ুয়াদের অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, ন্যায্য পরিমাপের চেয়ে কম পরিমাণ সামগ্রী তাঁদের ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। খবর পেয়ে স্কুলে আসেন প্রধানশিক্ষক-সহ অন্যান্যরা।

আরো পড়ুন প্রয়াত এশিয়াডে সোনা জয়ী প্রাক্তন বক্সার Dingko Singh

অভিভাবকদের অভিযোগ, নিয়ম মেনেই বৃহস্পতিবার মিড-ডে-মিল এর যাবতীয় সামগ্রী অর্থাৎ চাল-ডাল, চিনি, সাবান দেওয়া হচ্ছিল। সেই সময়, অভিভাবকদের সন্দেহ হয়, যা জিনিস দেওয়া হচ্ছে তা মাপে কম। তাঁরা বাইরের একটি দোকানে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী বাইরের দোকানে গিয়ে ওজন করান। দেখা যায়, প্রতিটি প্যাকেটেই কমপক্ষে ৫০ গ্রাম সামগ্রী কম রয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ছাপিয়ে গিয়েছে ৫০ গ্রামকেও।

আরো পড়ুন কেন্দ্র-রাজ্যের বিপরীতে গিয়ে দশম-দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার সময়সূচি!

মিড-ডে মিল নিতে আসা এক অভিভাবকের কথায়, “আমাদের কোনও মাপ জানানো হয় না। এখানে কোনও ওজন মেশিনও নেই। প্যাকেট করে খালি দিয়ে দেয়। আমরা বুঝতে পারি না চট করে। আজ দোকানে নিয়ে গিয়ে ওজন করাতে হাতেনাতে ধরা পড়ল। অনেক সময়, খারাপ জিনিসও দিয়ে দেয়।” মূলত, চাল-ডাল, আলু, এসব ক্ষেত্রেই পরিমাণে কম দেওয়া হচ্ছে সামগ্রী বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।

আরো পড়ুন ফের টর্নেডো পশ্চিমবঙ্গে

অভিভাবকদের তরফ থেকে এমন অভিযোগ ও চিৎকার চেঁচামেচির খবর পেয়ে ছুটে আসেন প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সাথে সাথে বদলে দেয়া হয় সমস্ত সামগ্রী। ওই বিদ্যালয়ের এক আধিকারিক বলেন-আসলে জিনিস কম দেওয়া হয় না। অনেকসময় হয়, যে জিনিস পচা বেরল, তখন হয়ত একটু কম পড়ে। ও তেমন কিছু না। তবে আমরা খবর পাওয়ার পরেই আজ জিনিস বদলে দিয়েছি।” যদিও, এই গোটা ঘটনায় মুখ খোলেনি বিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

আরো পড়ুন শুভেন্দুর দিল্লি সফর নিয়ে কটাক্ষ করলেন কুনাল, ফিরহাদ

প্রসঙ্গত, বেশ কিছুদিন আগেইমেদিনীপুরের দাঁতনে মিড-ডে মিলের চাল বাড়িতে জমিয়ে রাখার অভিযোগে এক প্রধান শিক্ষকের বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। এই দুর্নীতির কথা ভেবেই একটি বিশেষ দল গঠন করে স্কুল শিক্ষা দফতর। আগে থেকে কোনও খবর না দিয়ে ওই দল হঠাৎ হঠাৎ হানা দেয় বিভিন্ন স্কুলে। কারচুপি ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠানোর কাজ করে ওই বিশেষ দল। মূলত, মিড-ডে মিল দুর্নীতিতে রাশ টানতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ করেছিল স্কুল শিক্ষা দফতর।

Spread the love

Leave a Reply

%d bloggers like this: