ভাইফোঁটার কিছু অজানা ইতিহাস

অপর্ণা দাস : ভাই বোনের পবিত্র ভালোবাসার প্রতীক হল ভাইফোঁটা। প্রতিবছরই ভাই বোন চাতক পাখির মতো এই দিনটার অপেক্ষায় থাকে। কালী পুজোর ২ দিন পর ভাইয়ের শুভকামনায় পালিত হয় ভাইফোঁটা উৎসব। এই সময়কে সাধারণ ‘যম দ্বিতীয়া’ বা ‘ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া’ও বলা হয়। ভাইফোঁটা হিন্দুদের অন্যতম একটি উৎসব। এর পোষাকি নাম ভ্রাতৃদ্বিতীয়া অনুষ্ঠান।

হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী, এই উৎসব কার্তিকমাসের শুক্লপক্ষের ২য় দিনে উদযাপিত হয়। পশ্চিম ভারতে একে ভাইদুজ বলা হয়। আবার মহারাষ্ট্র, গোয়া ও কর্ণাটকে ভাইফোঁটাকে বলে ভাইবিজ। অন্যদিকে নেপাল ও পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলে একে ভাইটিকা বলা হয়ে থাকে। সেখানে বিজয়াদশমীর পর এটিই সবচেয়ে বড় উৎসব। মহারাষ্ট্রে মেয়েদের ভাইবিজ পালন অবশ্যকর্তব্য। এমনকী, যেসব মেয়েদের ভাই নেই, তাঁদেরও চন্দ্র দেবতাকে ভাই মনে করে ভাইবিজ পালন করতে হয়। এই রাজ্যে বাসুন্দি পুরী বা শ্রীখণ্ড পুরী নামে একটি বিশেষ খাবার ভাইবিজ অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করার রেওয়াজ আছে।

আরও পড়ুন বিসর্জনের আগে ভেঙে পড়ল ৪১ ফুটের কালী প্রতিমা

মহা সমারোহে পালিত হয় পবিত্র এই উৎসব। তবে স্নেহের বন্ধনে জড়ানো এই উৎসবের প্রচলন ঘিরে নানা মত আছে। এই উৎসবকে যমদ্বিতীয়া’ও বলা হয়। কথিত আছে, এই দিন মৃত্যুর দেবতা যম তাঁর বোন যমুনার হাতে ফোঁটা নিয়েছিলেন। তারপর থেকে ধরাধামে ভাইয়েরা তাঁদের বোনদের থেকে ফোঁটা নেওয়া শুরু করে। অন্য মতে, নরকাসুর নামে এক দৈত্যকে বধ করার পর যখন কৃষ্ণ তাঁর বোন সুভদ্রার কাছে আসেন, তখন সুভদ্রা কৃষ্ণের কপালে ফোঁটা দিয়ে তাকে মিষ্টি খাওয়ান। সেই থেকে ভাইফোঁটা উৎসবের প্রচলন হয়। এইদিন বোনেরা তাঁদের ভাইয়ের কপালে তেল মাখিয়ে তাদের স্নান করার পরামর্শ দেয়। প্রসঙ্গত, যমুনা নদীতে স্নান করা এইদিনে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। স্নান সেরে ভাই বোন উভয়েই নতুন কাপড় পড়েন। ভাইয়ের দীর্ঘায়ু কামনা করে, বোনেরা এই দিনটিতে উপবাস করে থাকেন। পাশাপাশি ভাইয়েরাও এই দিনটিতে উপবাস করে থাকেন। এরপর বোন দই মিশ্রিত চন্দনকাঠ জলে ঘষে তৈরি করে একটি মিশ্রণ। বোন এই মিশ্রণটি নিজের কনিষ্ঠা আঙ্গুলের সাহায্যে ভাইয়ের কপালে ঠেকিয়ে একটি মন্ত্র বলে তিনবার। মন্ত্রটি হল- ভাইয়ের  কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা। যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা। যমুনার হাতে ফোঁটা খেয়ে যম হল অমর।

আমার হাতে ফোঁটা খেয়ে আমার ভাই হোক অমর। মন্ত্র শেষে বোনেরা ধান, দূর্বা ঘাস ইত্যাদি ভাইয়ের মাথায় ঠেকিয়ে এবং তাঁকে জল-মিষ্টি খাইয়ে আচারটি সম্পূর্ণ করে। এরপর ভাইয়েরা বোনেদের বিভিন্ন উপহার দিয়ে থাকেন।

পশ্চিমবঙ্গে ভাইফোঁটা একটি ঘরোয়া অনুষ্ঠান হলেও ব্যাপক আনন্দ উৎসাহের মধ্যে দিয়ে পালিত হয় এই দিনটি। আজ ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া। প্রতিবছরের মতো এবারেও ভাইফোঁটা উৎসবের শুভ তিথি পালন হবে ঘরে ঘরে। তবে এবারে করোনা আবহের মধ্যে কিছু বিধি নিষেধ মেনে পালিত হবে ভাইকে ফোঁটা দেওয়ার দিন।

আরও পড়ুন ”আপনি ক্রিকেটার, হিন্দুদের ধর্মগুরু নন”, বিরাট কোহলিকে নজিরবিহীন আক্রমণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *