সত্যিই প্রয়োজনীয়? নাকি ক্ষতিকর? মুখোমুখি ইন্ডাস্ট্রির তিন তরুন মেক-আপ শিল্পী

সর্বজিৎ ঘোষঃ বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে শর্ট ফিল্মস, পোস্টার থেকে শুরু করে হোর্ডিং, সিরিয়াল থেকে শুরু করে বড় পর্দার সিনেমায় যে সুন্দর-সুন্দরী মুখগুলি চোখ বুজলেই ভেসে ওঠে আমাদের চোখে… সেই মুখগুলির পেছনে যে শিল্পীরা, এই প্রতিবেদন তাদের নিয়েই৷ মন্টি অধিকারী, রোহন দাস এবং রিয়া দত্ত .. তিনজনেই তরুণ, কাজ করতে শুরু করেছেন এই এক-দু বছর হল৷ তবে এতে তাদের উৎকর্ষতা বিচার করা যায় না৷ একাধিক ক্ষেত্রে বড় ব্যানারে কাজ করেছেন এঁরা। ইন্ডাস্ট্রিতে মেকাপের ভবিষ্যৎ বলতে গেলে এদেরই হাতে। আর আমাদের ভবিষ্যৎ কি ভাবছে, কোন পথে হাঁটতে চাইছে তা জানা বড্ড দরকার, তাইজন্যই এই বিশেষ প্রতিবেদন।

প্রশ্ন: আজকের ইন্টারভিউয়ের থিম খুবই ক্লিয়ার। আমি মেকাপের সম্বন্ধে সব থেকে বেশি জিজ্ঞেস করব খুঁটিনাটি ইত্যাদি। কিন্তু তার আগে আমি নিজে ব্যাক্তিগতভাবে যেটা সবথেকে বেশি জানতে চাই সেটা হচ্ছে, আপনি সর্বজিৎ বাবুর সাথে কাজ করা ছাড়া আপনি কোথায় এবং কোন কোন ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করেছেন।

মন্টি- অ্যাকচুয়ালি আমি ফ্রিল্যান্সের কাজ করি তো কিছু ফিল্মের কাজ করেছি, স্মল বাজেট ফিল্মের কাজ করেছি, আবার সিরিয়ালেও কাজ করেছি যেমন: রূপসী বাংলা, সঙ্গীত বাংলার কিছু শোতেও কাজ করেছি হয়তো টানা কাজ করিনি মাঝে ব্রেকও নিতে হয়েছে অন্যান্য কাজের জন্য। মোটামুটিভাবে যতগুলো অফার পেয়েছি তাতে কাজ করেছি।’লাভেরিয়া’ মুভিতে আমি অ্যাসিস্ট্যান্ট মেকাপ আর্টিস্ট ছিলাম।

রোহন: আমি বিভিন্ন সিরিয়ালে লুক টেস্ট করেছি এবং বেসিকালি আমি ফ্রিল্যান্সের তাই ফ্যাশনের কাজ বেশি করি। এছাড়া মডেলিং, বিভিন্ন শো লাইক রাম্প শো, পার্টি মেকআপ,বিয়েবাড়ির কাজ এইসব করতাম।’বঙ্গ গার্মেন্টস’, ‘ এনা স্টাইল ক্রিয়েশন’ এবং ‘সীমারহ এন্টারটেনমেন্ট’ একটি অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছি।

রিয়া: এই পুজো আসলে কলকাতায় আমার এক বছর কমপ্লিট হবে। এই বছরে আমি অনেকগুলি ছোটো খাটো প্রোডাকশন হাউসের সাথে কাজ করেছি।

শান্তনু- আচ্ছা। মেকাপ নিয়ে সাধারণ মানুষের একটা ধারণা রয়েছে যে মেকাপ ট্রান্সফর্ম করে। মানে পোড়াকয়লা থেকে জুহি চাওলা বানিয়ে দেয় এই জাতীয় মিথ রয়েছে। তো এইসব কি মিথ নাকি মিথ্যে? আপনার কি মনে হয়? মেকাপের ভূমিকাটি কি?

মন্টি- না না। ব্যাপারটা হচ্ছে কি যে মেকাপ এমনই কিছু যা আপনার ভিতরের সৌন্দর্যতাকে ফুটিয়ে তোলে। তোমাকে সুন্দর করে দেবে তা নয়, তবে তোমার ভিতরের সৌন্দর্যটাকে ফুটিয়ে তুলবে। কালোকে ফর্সা করে দিল দ্যাটস নট মেকাপ। সেটা মেকাপের পর্যায়ে পরে না। মেকাপ কিছু গ্যাপিং পূরণ করে দেয়। যাতে যেটুকু খুঁত আছে তা পূরণ করে যাতে তোমাকে সুন্দর লাগে।

 

রোহণ দাস

রোহন: দেখুন মেকআপ জিনিসটা হচ্ছে আসলে ভুল বা খামতি আমাদের সকলের মধ্যেই থাকে। সে ভুল বা খামতি গুলো পূরণ করা বা রিকভারি করাই হল মেকআপ। নিশ্চয়ই। ধরুন একজনের মুখ রাউন্ড হতে পারে বা বড়ো হতে পারে সেটা একটা শেপে আনা অর্থাৎ কারেকশন করা। ক্যামেরার লেন্সের একটা লুক আছে সেই লুক অনুযায়ী কারোর নাক বোচা বা টিকাল হলে মানানসই হেয়ার স্টাইল আমি করে থাকি।

রিয়া: কালো মহিলাকে যে ফরসা করে তুলি এমন কোনো ব্যাপার নয়। থিম বেসিকে আমরা মেকআপ করে তার সৌন্দর্যটা ফুটিয়ে তুলি। আর ভগবান তো সবাইকে এক রকম করে দেয় না যে কালো সে অবশ্যই কুৎসিত নয় মেকআপের মাধ্যমে তার গ্ল্যামার আমরা ফুটিয়ে তুলি স্কিন টোন হিসেবে।

শান্তনু- ওকে। আচ্ছা এটা কোনোদিনও মনে হয় না যে, এই মেকাপের জন্য সবাই এক আসনে বসে যাচ্ছে। যিনি সুন্দর তিনি এককথায় সুন্দরই থাকছেন আর তথাকথিত যিনি কুৎসিত তিনিও কোথাও না কোথাও সুন্দর হয়ে যাচ্ছেন। এই বিষয়টি নিয়ে কি মত ?

মন্টি অধিকারী

মন্টি- সেটাই তো আমি বললাম। সবাই তো পারফেক্ট নয়। তোমার যে খুঁত রয়েছে মেকাপ তা ভরাট করবে। নতুন কিছু অ্যাডিশন হতেই পারে তবে আমি মনে করি খুব একটা বেশি মেকাপ করে খুব একটা বেশি সুন্দর দেখানোর থেকে তুমি যেটা আছো সেটা একটুখানি শুধরে নিয়ে দেখানোই কি এনাফ।

রোহন : দেখুন সব কিছুরই একটা ভালো মন্দ দিক থাকে। মেকআপের জন্যই অনেকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে পারে আবার মেকআপের মাধ্যমে অনেক ফ্রড হয়ে থাকে। ইন্ডাস্ট্রি আর আমরা একে অপরের পরিপূরক। যেহেতু ক্যামেরা বোঝেনা যে কুৎসিতকে কুৎসিতই রাখতে হবে। তাই একজন সুন্দর মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যেন সেই মানুষটিকেও ভালো লাগে সেটাই আমাদের কাজ।

রিয়া দত্ত

রিয়া – আমরা ক্যামেরায় যখন লুক দেবো সেটা তখন খুব বাজে দেখায়। সেটা আমরা মেকআপ দিয়ে দূর করতে পারি। আমরা যে লুকগুলো সৃষ্টি করি সেগুলো মেকআপের উপর নির্ভর করে। আমার তো মনে হয় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি মেকআপ আর্টিস্টদেরই হাতে।

প্রশ্ন: এই প্রসঙ্গে আমি যেটা বলব ২০১৭-১৮ থেকে সারা বিশ্বজুড়ে যথা ন্যাচারাল বিউটিকেই সামনে রাখার একটা ট্রেন্ড শুরু হয়েছিল। একটা উদাহরণ দি , অ্যাভেঞ্জার্স মুভিতে ব্ল্যাক উইডোর গালে বা গায়ে যে স্পটগুলো ছিল সেগুলোকে কভার আপ করা হয়নি। বলতে গেলে জাস্ট নো মেকাপ আর যেগুলো মেকাপ দেওয়া হয়েছিল সেগুলো ছিল সিচুয়েশনাল মেকাপ। এই কনসেপ্ট থেকে শিখে আমরা অর্থাৎ বাংলা ইন্ডাস্ট্রি কতটা এগিয়ে এসেছি?

মন্টি: আমার মতে অনেকটাই উন্নত হয়েছে আমাদের টলিউড ইন্ডাস্ট্রি ।

রোহন: অনেকটাই শিখেছি, অনেকটাই। ন্যাচারাল মেকআপ এখানেও চলে এসেছে এবং যথেষ্ঠ চেষ্টা করা হচ্ছে।

রিয়া: আমারও একই মত। তবে অনেকটা পথচলা বাকী। অনেক উন্নতি করতে হবে আমাদেরও।

হ্যাঁ, এটা একেবারে ঠিক যে অনেক পথচলা বাকী। তবে একইসাথে এটাও ঠিক যে আপনারা সময়ের থেকে এগিয়েই রয়েছেন। রওনা দিয়েছেন সঠিক রাস্তা ধরে। শুভকামনা রইল, আরও বড় বড় কাজ করুন, এগিয়ে চলুক টলিউড ইন্ডাস্ট্রি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *