বুলবুলের প্রভাবে গাছ চাপা পড়ে ঘরের মধ্যে ঘুমন্ত অবস্থায় মৃত্যু

2019-11-11    959

সুজয় মণ্ডলঃ শনিবার রাত থেকেই বুলবুলের আতঙ্কে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট, সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জ, হাসনাবাদ সহ বিস্তীর্ণ সুন্দরবন এলাকার মানুষ। ঝড়ের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে এইসব ব্লকের বহু মানুষ। জানা যায় শনিবার রাত চারটে নাগাদ বসিরহাট এক নম্বর ব্লকের গোটরা পঞ্চায়েতের গোকনা গ্রামে গাছ চাপা পড়ে ঘরের মধ্যে ঘুমন্ত অবস্থায় মৃত্যু হয় রেবা বিশ্বাসের। অন্যদিকে বসিরহাট মাটনিয়া এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে গুরুতর জখম অবস্থায় কলকাতার একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় মইদুল গাজী নামে এক বৃদ্ধর।

একইভাবে ঘর চাপা পড়ে ও গাছের ডাল চাপা পড়ে হিঙ্গলগঞ্জ মালকান ঘুমটি এলাকায় মৃত্যু হয় সুচিত্রা মন্ডল আর সন্দেশখালির মথুরাপুর গ্রামের আমেনা বিবি ও সন্দেশখালির  দাড়ির জঙ্গল এলাকায় মৃত্যু হয় বিদেশি সরদারের। বুলবুলের আগাম সর্তকতা নিয়ে আগে থেকেই তৎপর ছিল বসিরহাট মহকুমা প্রশাসন। তৈরি ছিল উদ্ধারকারী দল। কিন্তু তারপরও এড়ানো গেল না মৃত্যুর ঘটনা।



ঝড়ে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের দিকে অভিযোগের আঙুল উঠেছে আক্রান্তদের পরিবারের পক্ষ থেকে। বসিরহাটের গোকনা গ্রামের বাসিন্দা রেবা বিশ্বাসের মৃত্যুর জন্য প্রশাসনের দিকেই গাফিলতির আঙ্গুল তুলে প্রতিবেশী হাফিজুল মণ্ডল বলেন, " রেবা বিশ্বাসদের দরিদ্র পরিবার হওয়া সত্ত্বেও পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে পাকা ঘরের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি তাদের জন্য। সেই কারণে শিরীষ গাছের গোড়ায় ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে থাকতে হতো পুরো পরিবারকে"। পাকা ঘরের ব্যবস্থা করা হলে মৃত্যুর ঘটনা আটকানো যেত বলে দাবি প্রতিবেশীদের। বুলবুলের আক্রমণে মৃত্যু ছাড়াও ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষকরা। বহু চাষের জমি নষ্ট হয়েছে বুলবুলের কারণে।



Advertisement

সর্বাধিক জনপ্রিয়