উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে পঞ্চম স্থান অধিকারী  সুপর্ণার পাশে শিক্ষক সমাজ

2020-07-28    1366

 

গাইঘাটা: বাবা দিন মজুর।মা সেলাইয়ের কাজ করে পরিবারের সাহায্য করেন।দিন আনা, দিন খাওয়া পরিবার।পেটের টানে মাকে সেলাইয়ের কাজে প্রতিদিনই সাহায্য করতে হয় মেয়ের।এরকমই একটি পরিবার থেকে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে পঞ্চম হলো ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবস্থিত গাইঘাটার সুবিদপুর গ্রামের মেয়ে সুপর্ণা খাতুন।

আলি হোসেন আর নার্গিস বিবির সন্তান সুপর্ণা।মাধ্যমিকে বেড়ী গোপালপুর আদর্শ বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৮৪ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাশ করলেও স্বপ্নেও ভাবেনি উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম পাঁচের মধ্যে ঠাঁই করে নেবে সামান্য ক্ষেতমজুরের সন্তান।পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বাড়ি হলেও দারিদ্র্যের চিহ্ন কিন্তু লুকোতে পারেনি।কোন রকমে ইঁটের একটি বাড়ি তোলা হলেও আজ পর্যন্ত তার জানলা বসেনি।ওই একটি ঘরে বসেই নিবিড় পড়াশুনার মধ্য দিয়ে সুবিদপুর এর একটি সংখ্যালঘু পরিবারের মেয়ে সুপর্ণা ইতিহাস তৈরি করেছে।একাগ্রতা, নিজের উপর বিশ্বাস আর পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসা ওকে আজ উচ্চমাধ্যমিকে সারা রাজ্যে পঞ্চম স্থানে বসিয়েছে।এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সুপর্ণার প্রাপ্ত নম্বর ৫০০ মধ্যে ৪৯৫।ও বাংলা, এডুকেশন, সংস্কৃত ও জিওগ্রাফিতে ১০০ তে ১০০পেয়েছে।তাছাড়া ফিলোসফিতে ৯৫ এবং ইংরেজিতে ৮৬।ওর সাফল্যে উদ্বেল ওর প্রতিবেশী শাজাহান মন্ডল, ইসমাইল মন্ডল থেকে শুরু করে আসাদুল সরদারেরা।দরিদ্র এই মেয়েটির পড়াশোনা নিয়ে বেশ ভাবিত প্রতিবেশীরা। ওর সাফল্যে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন ওর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ শিক্ষক মহলের অনেকে।
রবিবার গোবরডাঙার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একটি দল দুঃস্থ মেধাবী ছাত্রী সুপর্ণার বাড়ি পরিদর্শন করেন।মূলত গোবরডাঙা শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে মেধাবিনী সুপর্ণার হাতে পাঁচ হাজার টাকা নগদ তুলে দেন প্রধান শিক্ষক অশোক পাল।এছাড়া প্রাক্তন এবিটিএ নেতৃত্ব এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কার্তিক বিশ্বাস ছাত্রীর হাতে কিছু সাহায্য তুলে দেন।প্রতিনিধিদলে ছিলেন শিক্ষিকা দিপু বিশ্বাস,শিক্ষক সত্রাজিৎ সরকার,ড. প্রসন্ন সাহা,অনন্ত দাস,সনজিৎ মল্লিক,অনিমেষ মন্ডল,অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কার্তিক বিশ্বাস প্রমুখ।তারা দুঃস্থ ছাত্রীর ভবিষ্যতে পঠন-পাঠনের সব রকম সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দেন।

সবার সহযোগিতা নিয়ে সুপর্ণা দারিদ্র্যের এই বাধাকে অতিক্রম করে আগামী দিনে ভূগোলের অধ্যাপিকা হতে চায়।আমরা সবাই মিলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে পারি,সংখ্যালঘু পরিবারের এই পিছিয়ে পড়া মেয়েটির স্বপ্নকে পূরণ করতে।
 

Advertisement

সর্বাধিক জনপ্রিয়